,

শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে আন্তর্জাতিক মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দিবস পালিত লক্ষ্মীপুরে দোকান দখলের চেষ্টা, ভাংচুর লক্ষ্মীপুরে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত  লক্ষ্মীপুরে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি-জমি লক্ষ্মীপুরে হত্যা মামলার আসামীর মোটরসাইকেল শোডাউন লক্ষ্মীপুর ব্যবসায়ীর উপর হামলার অভিযোগ অনুমতিহীন কোরবানি হাটে অবৈধভাবে আদায় হচ্ছে লাখ-লাখ টাকা! লক্ষ্মীপুরে গরু-মহিষ চোরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় হত্যার উদ্দেশ্যে এসে হামলা, লুটপাট লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ লক্ষ্মীপুরে দোকান ঘর বিক্রির নামে প্রতারনা

লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতার বেপরোয়া কান্ড!

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির মাঝখানে রাখা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাসভীরুল হক অনু’র। এতে করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। যুবলীগ নেতার বেপরোয়া দাপটে স্থানীয় আওয়ামীলীগের কেউ মুখ খুলছে না।

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ও রাতে দুইবার রামগতি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহ্ মো. রাকিব তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক একাউন্টে তার নিজস্ব অফিসে বসা অনেকগুলো ছবি পোস্ট করেন। যুবলীগের শীর্ষ নেতা অনু রামগতি উপজেলা যুবলীগ নেতা রাকিবের নিকটতম আত্মীয়। তাই সেই সবসময় অনুর নাম ব্যবহার করে রামগতিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছে।

পোষ্ট করা ছবিগুলোতে দেখা গেছে রাকিবের সঙ্গে অন্য একটি চেয়ারে বসা ছিলেন রামগতি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাহিদ হোসেন।

জানতে চাইলে রামগতি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সোয়াইব হোসেন খন্দকার জানান, রাকিব ও রাহিদ যে অফিস বসা ছবিগুলো ফেইসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। ওই অফিস তাদের ব্যক্তিগত অফিস। তারা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে অনু ভাইকে আরো বড় করে দেখে। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির মাঝখানে অন্য কোন ব্যক্তির ছবি টানানো যাবে কি না এ বিষয়ে জানতে রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ মুরাদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির মাঝখানে যুবলীগ নেতা অনুর ছবি এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রামগতি উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহ্ মো. রাকিবকে ৩ বার মোবাইল করার পরও তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এ.কে.এম সালাহ্ উদ্দিন টিপু বলেন, বর্তমান সময় দেখা যাচ্ছে। কিছু নেতা আছে তারা নিজেদের বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার চেয়ে বড় রাজনৈতিক নেতা মনে করেন। এমন ছবি কেউ আবেগি হয়ে লাগাতেও পারবে না। যে ছবির কারণে প্রশ্ন বৃদ্ধ হতে হবে। যেখানে বঙ্গবন্ধু-শেখ হাসিনার ছবির মাঝখানে অন্য নেতার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তা ঠিক হয়নি।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান চপলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি একটি পোগ্রামে আছেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না জানান, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবির মাঝখানে কোনোভাবেই অন্যকোন ব্যক্তির ছবি টানানো যাবে না। এটা সম্পন্ন অন্যায় ও ক্ষমতার দাপট। কেউ চাইলে অন্য দেওয়ালে অথবা পাশে দূরত্ব বজায় রাখতে পারবে। তাহ জাতীর পিতার ছবির নিচে হতে হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন (এমপি)কে সাড়ে ৫টা থেকে ৬ টা পর্যন্ত একাধিকবার মোবাইল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান মুঠোফোনে জানান, জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবির মাঝখানে কোনভাবে অন্য কোন ব্যক্তির ছবি রাখার নিয়ম নেই। রামগতির বিষয়টি আমরা খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো।

     এই বিভাগের আরও সংবাদ